শিরোনাম
রবিবার ২৬ মে ২০২৪
রবিবার ২৬ মে ২০২৪
মা দিবস

সব যন্ত্রণা ভুলে গিয়েছিলাম পুত্রের মুখ দেখে

প্রকাশিত:রবিবার ১২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১২ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
Image

মাকে চিনতে একটা মেয়ের সময় লাগে অনেক বছর, এই অনেক বছরের নির্দিষ্টতা নেই। সংখ্যায় কারো কম, আবার কারো বা বেশি। তবে এই কম-বেশির মাঝামাঝি তেও বেশ লম্বা একটা সময় কেটে যায়। একটা সময় মায়ের প্রতি ভীষণ বিরক্ত হতাম, কেমন জানি সব কিছু তে সহ্য হচ্ছে না, হচ্ছে না মনে হতো। এমন মনে হতো যে ধুর, আম্মু কিছু বুঝে না, আম্মু সবসময়ই প্যারা দেয়, আচ্ছা আম্মু সবসময় এতো গোয়েন্দাগিরি করে কেন? আমার সামান্য একটু জ্বর আসলে আম্মুর এতো বাড়াবাড়ি কেন? জ্বরই তো হয়েছে সামান্য! মরণ রোগ তো হয়নি। আম্মুর সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি! আচ্ছা, আম্মু এমন কেন? খিটখিটে মেজাজে থাকে প্রায়ই! ভালো করে তো দু চারটা কথা বলতে পারে। কই? বলে না তো? এমন ছোট ছোট আরও শত শত অভিযোগ জমা হচ্ছিলো আম্মুর বিরুদ্ধে। সব প্রকাশ করিনি, মাঝে মাঝে হয়তো কোনোটা প্রকাশ করতে গিয়ে বিরক্তিও দেখিয়েছি কতবার তার হিসেব করা হয়নি। কিন্তু আজ একটা সময় পর মায়ের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। জীবনের কতটা জায়গা জুড়ে মায়ের অস্তিত্ব, জীবন সুন্দর করে গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা ঠিক কতটা, একটা সন্তানকে একজন মা কত কষ্ট করে তিলে তিলে বড় করে, কত যত্ন করে মা তার সন্তান কে আগলে রাখে- এখন আমি সেটা বুঝতে পারি। এখন যে আমিও একজন মা!

সেদিন ছিলো বুধবার, ১লা ফেব্রুয়ারী, ২০২৩। ঘড়িতে ঠিক দুপুর ১২.৪৫ মিনিট, আশেপাশের মসজিদের মাইকে জোহরের আজান শোনা যাচ্ছিলো। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম দিলাম এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের। সবার খুশি দেখে কে? আমাকে যখন প্রথম বাচ্চার মুখ দেখানো হলো, আমি কেন জানি কিছু বলতে পারছিলাম না, হাউমাউ করে কান্না করছিলাম শুধু৷ তবে সে কান্না ছিলো সুখের, শুধু বারবার মনে হচ্ছিল এ আমার সাত রাজার ধন, এ আমার অমূল্য সম্পদ। সেদিন মনে হয়েছিল মেয়ে হিসেবে আমার জন্ম সার্থক। সেইদিন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ছিলাম এই আমি। অপারেশন থিয়েটার থেকে বেডে দেওয়ার পর গলাকাটা মুরগির মতো যন্ত্রণা হচ্ছিলো, কিন্তু পরক্ষণে বাচ্চার মুখের দিকে তাকাতেই সব ব্যথা, কাতরতা, যন্ত্রণা মুহূর্তেই গায়েব হয়ে গেছিলো। আহা! কি পরম শান্তি! সে এক অভুলনীয় অনুভূতি। সাত দিনের দিন বাচ্চার আকিকা দেওয়া হলো, নাম রাখা হলো আব্দুর রহমান আস সুদাইস। আমি বাচ্চার জন্মের এক মাস আগে থেকেই আমার মায়ের কাছে ছিলাম। হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার পরও শ্বশুর বাড়ি না এসে মায়ের কাছেই ছিলাম। সব মিলিয়ে দুই-আড়াই মাস হবে। জীবনের এই দুই আড়াই মাসে আমি বুঝেছি মা কি!

আমাকে এবং আমার নবজাতক সন্তানকে নিয়ে আমার মায়ের কতো ব্যস্ততা, কতো চিন্তা! মেয়ের খাবার-দাবার ঠিক আছে কি না, সেলাই শুকালো কি না, সেলাইয়ে ইনফেকশন হচ্ছে না তো? মেয়ে কবে পুরোপুরি সুস্থ হবে? মেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে কি না? আমি তখন আমার মা কে যত দেখতাম, ততো বিমোহিত হতাম। একা হাতে সারাদিন সংসারের নানান কাজকর্ম, রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে আমার এবং আমার ছেলের সম্পূর্ণ খেয়াল রাখতেন আমার আম্মু। এমন কি সারাদিন এতো হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও সারারাতও ঘুমানোর সুযোগ পেতো না। আমার ছেলেকে ফিডার বানিয়ে খাওয়ানো, একটু পর পর প্রসাব করে দিতো, ওর চেইঞ্জ করা, ওকে আবার ঘুম পাড়ানো সবকিছু আমার আম্মু করতো। আর আমি? আরামে ঘুমাতাম! নয় দিনের বাচ্চা রেখে যেদিন স্ট্রোক করলাম, সবাই হাউমাউ করে কান্না করতে পারলেও আমার আম্মু পারেনি। আম্মু শুধু এর ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। ওই যে কথায় বলে না অধিক শোকে পাথর? তাই হয়েছিলো হয়তো বা। আল্লাহ আমার মায়ের বুক খালি করেনি, আমাকে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুকরিয়া।

আজ আমার ছেলের বয়স এক বছর তিন মাস প্রায়। ওর বয়স যেদিন চল্লিশ দিন, সেদিনই চলে আসি শ্বশুর বাড়ি। শ্বশুর বাড়িতে আসার পর প্রতি মুহুর্তে আম্মুর প্রয়োজনীয়তা আর গুরুত্ব অনুভব করতে লাগলাম। চল্লিশ টা রাত আমার আর আমার ছেলের জন্য আমার আম্মু ঘুমায়নি, অথচ এখন আমাকে রাত জাগতে হয়, ছেলেকে সামলাতে হয়। ওর সামান্য কিছু হলেই এখন আমি কান্না করি, এখন বুঝি আম্মু কেন এমন করতো। আমার আম্মুর মাতৃত্বের তেইশ বছর। আম্মু কখনও খিটখিটে মেজাজে কথা বললে রাগ দেখাতাম, অথচ আমার মাতৃত্বের সবে মাত্র এক বছর পেরিয়েছে, এরই মধ্যে আমিও খিটখিটে হয়ে গেছি। মাকে চিনতে সময় লাগে অনেক বছর। আমি এখন একটু একটু করে আমার মাকে চিনতে, বুঝতে শুরু করেছি। সময় যতো যাবে, আমি জানি আমার এই অভিজ্ঞতা আরও বাড়বে বৈ কমবে না। এটা শুধু আমার নয়, প্রায় প্রতিটি ঘরেরই সাধারণ গল্প। কিন্তু এই সাধারণের মাঝেও কিছু অসাধারণ বিষয় লুকিয়ে থাকে, যা কেবল উপলব্ধি তেই সুন্দর।

আজকের এই মা দিবসে মাকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে অবিরাম ভালোবাসা, সেই সাথে জীবনে ছোট ছোট করা ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা। ভালোবাসি আম্মু, অনেক ভালোবাসি।

 

লেখক: আফরিন আক্তার, শিক্ষার্থী, নরসিংদী সরকারি কলেজ।


আরও খবর




প্রাইভেটকারের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত

পোরশায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে মডেল প্রেসক্লাবের সংবর্ধনা প্রদান

ভৈরবে কফিহাউজে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসায়,প্রতিষ্ঠানের মালিক গ্রেফতার

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ

চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বন্দরে অ্যালার্ট-৪ জারি

ধান কাটার মেশিনে শিশুর মৃত্যু, চালক গ্রেপ্তার

সোনাইমুড়ীতে সিঁধেল চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন,সার্কেল এসপির সংবাদ সম্মেলন

ধানমন্ডিতে হকারদের সড়ক অবরোধ

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় পোশাকশ্রমিক নিহত

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি আনোয়ার উল হক মারা গেছেন

হজে আরও একজন বাংলাদেশির মৃত্যু

ইউনূসের বিরুদ্ধে সাড়ে ৯ কোটি টাকা অবৈধ ঋণ দেওয়ার অভিযোগ দুদকে

শাহীনকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে ডিবি

সাংবাদিক হেনস্তার ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি : কাদের

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২২

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং তার ছেলে মিলে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ

নোয়াখালীতে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৪

ভৈরবে ধর্ষণের শিকার প্রেমিকা, প্রেমিক সহ আটক ৮ জন

ঘুষের টাকা নিতে গিয়ে আটক হয়ে মার খেলেন পুলিশ সদস্য

ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করায় তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ,হসপিটালে ভাংচুর

উন্নয়নের ভেলকিতে বাংলাদেশ এখন মৃত্যু উপত্যকা: রিজভী

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাঠ জরিপে এগিয়ে আনারস প্রার্থী আরিফ হোসেন

খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার

ইপসার উদ্যোগে মহান মে দিবস ২০২৪ উদযাপিত

অভিনয় দক্ষতায় দর্শকদের কাঁদিয়ে রাজকুমারে প্রশংসিত আহমেদ শরীফ

ব্যাড গার্লস’-এ তানিন সুবহা

সব যন্ত্রণা ভুলে গিয়েছিলাম পুত্রের মুখ দেখে

নবীগঞ্জের কৃতিসন্তান নাজমুল ইসলাম মনসুর এর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন

বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে "আশা শিক্ষা কর্মসূচী"র অভিভাবক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


এই সম্পর্কিত আরও খবর

সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা অসাধারণ অনুভূতি

চেয়ারে বসে কোমরে ব্যথা? ৩ ব্যায়াম অভ্যাস করতে পারেন

শিশুর রাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

কেমন হবে বৈশাখের সাজ

Pioneering Pathways: Exploring Jute Geotextiles in Road Construction

তারুণ্যের ভাবনায় নারী দিবস

অবিবাহিত ছিলাম বলে চাকরিটা হয়নি

সিজারিয়ানের পর পিঠব্যথা হলে যা করবেন

কীভাবে বুঝবেন আপনি একজন ব্যর্থ মানুষ

বাল্যবিয়ে-দেরিতে সন্তান, বাড়ছে শিশুর জন্মগত ত্রুটি